অবশেষে নির্মমভাবে জখম হওয়ার ১৩ দিন পর মারা গেছেন বৃদ্ধা সুমিত্রা ঘোষ (৭০)। সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
তিনি পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের দক্ষিণ সলুয়া গ্রামের মৃত রঞ্জন ঘোষের স্ত্রী ও দুধ ব্যবসায়ী নারায়ণ ঘোষের মা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন গভীর রাতে কে বা কারা বৃদ্ধা সুমিত্রা ঘোষকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরদিন ২৪ জুন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে তাঁর নাতি রাহুল ঠাকুরমাকে ডাকতে গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা খোলা এবং মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি পড়ে আছেন। রাহুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। তাঁর মাথায় ও কপালে হাতুড়ির আঘাত এবং হাতে দায়ের কোপ ছিল। হাসপাতালে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তাঁকে বাড়িতে আনা হয়েছিল।
এই ঘটনার কারণ সম্পর্কে বৃদ্ধার ছেলে নারায়ণ ঘোষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্থানীয়দের ধারণা, কিছুদিন আগে তিনি ১ লাখ ৪ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করেছিলেন। সেই টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই হয়তো দুর্বৃত্তরা এই হামলা চালিয়েছে। আবার কেউ কেউ ঘটনাটিকে বেশ রহস্যজনক বলেও মনে করছেন।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, বৃদ্ধা এতদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন, আজ মারা গেছেন। এখনো থানায় কেউ কোনো অভিযোগ বা মামলা করেননি। মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলনা গেজেট/এএজে

